Grameen Bank (Unofficial) পরিচিতিইতিহাসআর্থিক চিত্রসামাজিক প্রভাবআইন১৬ সিদ্ধান্তপ্রশ্নোত্তর

Grameen Bank (Unofficial)

জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাস, আইন, ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের আর্থিক ও সামাজিক চিত্র, কর্মসূচি এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব, সবকিছু এক জায়গায়।

১৯৭৬: ২৭ ডলারে ৪২ নারীকে ঋণ দিয়ে শুরু২০২৫ সালে নিট মুনাফা ৬১০ কোটি টাকা৯,৩১,১৭০টি ঘর নির্মিত৩,৭৬,৭৯৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেপ্রায় ৫২ কোটি গাছের চারা রোপণবিশ্বের ১৭৫ দেশে গ্রামীণ মডেলের অনুসরণ (প্রতিবেদন অনুযায়ী)৯৬.৬৭% সদস্য নারী২০০৬: নোবেল শান্তি পুরস্কার২,০০৯টি শাখা মুনাফায় (ব্লু স্টার)
এটি একটি অনানুষ্ঠানিক তথ্য-সাইট; গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। বেশিরভাগ তথ্য গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে। প্রতিবেদনে কিছু সংখ্যা এক জায়গায় অন্য জায়গার সঙ্গে মেলে না; সেক্ষেত্রে আমরা প্রধান সারণির সংখ্যা নিয়েছি।
১০.৮২ মিলিয়নমোট সদস্য
৯৬.৬৭%সদস্য নারী
৮১,৬৭৮গ্রামে সেবা
২,৫২৮চালু শাখা (৪০ জোন, ২৪০ এরিয়া)
২৪,২১৭কর্মী
১,৩৫,৫২৩কেন্দ্র
৬১০ কোটি টাকা২০২৫ সালের নিট মুনাফা

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচিতি

গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। ভূমিহীন ও বিত্তহীন মানুষকে, বিশেষত নারীদের, জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়া এর মূল কাজ। ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি “Banking for the Poor”; ঋণকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখা হয়। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী লক্ষ্য হলো আয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের নিম্নচক্র ভেঙে ড. ইউনূসের “তিন শূন্য” (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) ভাবনা এগিয়ে নেওয়া।

শুরুর গল্প

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জোবরা গ্রামে যান। বাঁশের মোড়া বানানো সুফিয়া বেগমের মতো মানুষ মহাজনের কাছে ঋণে আটকে ছিলেন। তিনি নিজের পকেট থেকে ২৭ ডলার ৪২ জন নারীকে ধার দেন; সবাই তা ফেরত দেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জামানতহীন ঋণের ধারণা দাঁড়ায়।

মূল্যবোধ (প্রতিবেদন অনুযায়ী)

  • আস্থা: দরিদ্ররাও ঋণযোগ্য
  • সততা, সংহতি (দলীয় ঋণ), মর্যাদা
  • ক্ষমতায়ন: অনুদান নয়, সুযোগ
  • সামাজিক ন্যায়: নারী, ভূমিহীন, অতিদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার

কীভাবে কাজ করে

নেতৃত্ব (বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী)

পদধারী বদলাতে পারেন; হালনাগাদ তালিকা অফিসিয়াল সাইটে দেখুন।

ইতিহাসের ধাপ

  1. ১৯৭৬: জোবরায় গবেষণা-প্রকল্প শুরু; ২৭ ডলারে ৪২ নারীকে ঋণ। শুরুতে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হতো এবং ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে জামিনদার ছিলেন।
  2. ১৯৭৮-৭৯: কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবস্থা; বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় টাঙ্গাইলসহ আরও এলাকায় সম্প্রসারণ।
  3. ১৯৮২: ইফাদ-এর সহায়তায় ঢাকা, রংপুর ও পটুয়াখালীতে সম্প্রসারণ।
  4. ২ অক্টোবর ১৯৮৩: বিশেষ অধ্যাদেশে সরকারি আদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত; শুরুতে মালিকানা ঋণগ্রহীতার ৪০%, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬০%।
  5. ১৯৮৪: গৃহঋণ কর্মসূচি (১৯৮৯ সালে আগা খান পুরস্কার)। ১৯৯৭: উচ্চশিক্ষা ঋণ।
  6. ২০০০-২০০২: গ্রামীণ-২ (জেনারেলাইজড সিস্টেম); ২০০২ সালের জুলাইয়ে জীবন-সংগ্রামী (ভিক্ষুক) সদস্য কর্মসূচি।
  7. ২০০৬: নোবেল শান্তি পুরস্কার (গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস যৌথভাবে)।
  8. ২০১৩: গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩; প্রতিবেদনের ভাষায় পরে এটি বিতর্কিত হয়।
  9. ২০২৪-২৫: ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান (প্রতিবেদনে নিয়োগের সময় ২০২৪ ও ৮ এপ্রিল ২০২৫, দুই রকম লেখা); ১৭ এপ্রিল ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ অনুমোদন করে; ৮ এপ্রিল ২০২৫-এ নতুন এমডি নিয়োগ।
  10. ১০ এপ্রিল ২০২৬: গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (৮২ নং আইন) কার্যকর, অধ্যাদেশ রহিত।

সদস্য সংখ্যার বৃদ্ধি (মিলিয়ন)

১৯৮৪০.১২
১৯৯০০.৮৭
২০০০২.৩৮
২০১০৮.৩৪
২০২০৯.৩৪
২০২৫১০.৮২

২০২৫ সালের শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণ ৩,৫১৯.৫৪ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৪১.৪১ বিলিয়ন ডলার)। সদস্য পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৪৩-৪৫ মিলিয়ন মানুষ ব্যাংকের কার্যক্রমের আওতায় (প্রতিবেদনের অনুমান)।

আর্থিক চিত্র ২০২৫

সূচক২০২৫২০২৪
মোট সম্পদ৩১,৭০৫.৫৮ কোটি টাকা৩০,৮২৪ কোটি টাকা
ঋণস্থিতি (লোন আউটস্ট্যান্ডিং)১৭,৩৭৮ কোটি টাকা১৬,৩৯২ কোটি টাকা
মোট আমানত (সদস্য ১৭,৪১৭ কোটি + অসদস্য ৬,৮৯১ কোটি)২৪,৩০৮ কোটি টাকা২৩,৭৭৬ কোটি টাকা
শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি৩,৯০৮ কোটি টাকা৩,২৯৩ কোটি টাকা
নিট মুনাফা৬১০ কোটি টাকা৫২৯ কোটি টাকা
বছরে বিতরণ২৭,০৩১ কোটি টাকা২৪,১৩৪ কোটি টাকা
নিট সুদ মার্জিন (NIM)৬.৯১%৭.৬৮%
ROA / ROEপ্রায় ১.৯২-১.৯৩% / ১৫.৬১%১.৭২% / —
ব্যয়-আয় অনুপাত৬৪.৮৪%—
ডিভিডেন্ড৩০%৩০%
আদায়ের হার৯৫.৫৩% (বেসিক ঋণে ৯৫.৬৭%)৯৬.২৫% (বেসিক ঋণ)
মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ৬৬০ কোটি টাকা৪৭১ কোটি টাকা
গড় আমানত / গড় ঋণ প্রতি সদস্য২২,৪৬৫ / ২৯,২৮১ টাকা—

ঋণস্থিতি (বিলিয়ন টাকা)

২০২১১৩৫.০
২০২২১৫২.৬
২০২৩১৬২.৫
২০২৪১৬৩.৯
২০২৫১৭৩.৮

নিট মুনাফা (কোটি টাকা)

২০২১৪৯
২০২২২৩৬
২০২৩১৮৮
২০২৪৫২৯
২০২৫৬১০

ঋণ পোর্টফোলিও পণ্যভেদে (বিলিয়ন টাকা, ২০২৫)

বেসিক১৩০.৮
ক্ষুদ্র উদ্যোগ৩০.৬
বিশেষ৪.৫
ফ্লেক্সিবল৪.১
গৃহঋণ১.২
উচ্চশিক্ষা০.৮৫

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ

যৌথ নিরীক্ষক এম. জে. আবেদীন অ্যান্ড কোং ও এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনার্স ৫ মে ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে হিসাবকে সঠিক ও ন্যায্য বলেছেন, তবে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা কিছু এফডিআরের প্রভিশন, কর ও ভ্যাট মামলা, IFRS 16 অনুসরণ না করা, এবং ৩০০ কোটি টাকার ন্যূনতম মূলধন এখনও অর্জন না হওয়া (সরকারের শেয়ার ৯.৮৭% ও ঋণগ্রহীতাদের ৫৪.৯৮%, যেখানে আইনে ১০% ও ৯০% প্রয়োজন)।

সামাজিক প্রভাব ও কর্মসূচি

৯,৩১,১৭০গৃহঋণে নির্মিত ঘর (১৯৮৪ থেকে); ২০২৫-এ ২৯,৪৯৩টি। সর্বোচ্চ ঋণ ৮০,০০০ টাকা, ৮% সুদ, ৫ বছর।
৩,৭৬,৭৯৭শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে (১৯৯৯-২০২৫), মোট ৭৭.৪৭ কোটি টাকা। অন্তত ৫০% ছাত্রীদের জন্য।
৫৫,০৮৮উচ্চশিক্ষা ঋণ (৪০৪ কোটি টাকা); পড়ার সময় সুদ নেই, পরে ৫%।
১,১৪৬নার্সিং শিক্ষার্থী (গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং): ডিপ্লোমা ৯৯২, বিএসসি ১৫৪।
প্রায় ৫২ কোটিচারা রোপণ (২০২৫ পর্যন্ত); ২০২৫ সালে প্রায় ৮৮ লাখ। সামাজিক বনায়ন ঋণ সুদমুক্ত।
৯,০৪,১৯৪মৃত ঋণগ্রহীতার ঋণ মওকুফ (ঋণ-বীমা); বিমা তহবিল ১,৯২৭ কোটি টাকা। পরিবারকে ঋণের বোঝা বইতে হয় না।
১,৪৩,৮৯১জীবন-সংগ্রামী (ভিক্ষুক) সদস্য ২০০২ থেকে; বর্তমান ৮৯,১৪০; ২১,৩৮৮ জন ভিক্ষা ছেড়েছেন; আদায়ের হার ৮৬%।
৯৯এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (চট্টগ্রাম) সদস্য-সন্তানদের পূর্ণ বৃত্তিতে ভর্তি (প্রতিবেদনের চার্টে দেখানো সেশনগুলোর যোগফল, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫)।

কার্ড-সংখ্যা বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ থেকে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ২৫টি পূর্ণ বৃত্তি দিতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে আছে।

দশ দারিদ্র্য সূচক (প্রতিবেদনের তালিকা)

স্টার কর্মসূচি (২০০১ থেকে)

১০৫গ্রিন স্টার: ১০০% ঋণ আদায়
২,০০৯ব্লু স্টার: শাখা মুনাফায়
১,৫৮২ভায়োলেট স্টার: নিজস্ব আয় ও আমানতে স্বনির্ভর
৮৫৯ব্রাউন স্টার (আবেদন): ১০০% শিশু শিক্ষিত
৫১৪রেড স্টার (আবেদন): সব পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে

সর্বোচ্চ মুনাফার শাখা: মদনপুর বন্দর (নারায়ণগঞ্জ, ২.৯৬ কোটি টাকা), জোশলং টঙ্গিবাড়ী, দক্ষিণখান উত্তরা (গাজীপুর)। ব্রাউন ও রেড স্টার যাচাই সাপেক্ষে।

আইন ও পরিচালনা কাঠামো

গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত। নিচে ২০১৩ সালের কাঠামোর সঙ্গে ২০২৫-এর সংশোধনের তুলনা (বার্ষিক প্রতিবেদন) এবং আইনের মূল পরিবর্তন (bdlaws):

বিষয়আগে (২০১৩ আইন)সংশোধনের পর
মালিকানাসরকার ২৫% (২০১১-তে ৫% থেকে বাড়ানো), ঋণগ্রহীতা ৭৫%সরকার ১০%, ঋণগ্রহীতা ৯০%
পর্ষদসরকার-নিযুক্ত ৩ জন (চেয়ারম্যানসহ), চেয়ারম্যান সরকার নিয়োগ দিত১ সরকারি প্রতিনিধি + ৯ নির্বাচিত + ৩ মনোনীত; চেয়ারম্যান বোর্ড নির্বাচন করে; এমডি পদাধিকারবলে, ভোটাধিকার নেই
নিয়ন্ত্রণগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরকারের অনুমোদনবাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি
কার্যক্ষেত্রগ্রামীণ এলাকাসিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাতেও সম্প্রসারণযোগ্য
পরিশোধিত মূলধন—৩০০ কোটি টাকা; ঋণগ্রহীতারা ধাপে ধাপে বাড়াবেন
এমডির বয়সসীমা৬০ বছর৬৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়
পরিচালকদের মেয়াদ—প্রতি মেয়াদে ৩ বছর, একটানা সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ, তারপর ৩ বছর বিরতি
অন্যান্য—বোর্ড কোরাম ৪; বন্ড/ডিবেঞ্চার বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনে; তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক; “জনস্বার্থ সংস্থা”

মনোনীত ৩ পরিচালক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ অর্থনীতি বা নারীর ক্ষমতায়ন-বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, একজন নারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং নারী-অধিকার বিষয়ক একজন গবেষক, নেত্রী বা আইনজীবী।

“ভূমিহীন বা বিত্তহীন ব্যক্তি”: (ক) যাঁর পরিবার ৫০ শতাংশের কম চাষযোগ্য জমির মালিক বা সম্পত্তি নিজ ইউনিয়নের ১ একর চাষযোগ্য জমির বাজারদরের বেশি নয়; (খ) যাঁর এলাকা পরে পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তারপর নতুন জমি কেনেননি; (গ) অন্তত ৩ বছর পৌর/সিটি এলাকায় বাস করছেন, জমি নেই এবং আয় করমুক্ত সীমার বেশি নয়।

আইনের পাঠ: bdlaws.minlaw.gov.bd। প্রতিবেদনে আরও আছে: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধি মানা হচ্ছে; নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ, সঞ্চয় ও অন্যান্য সেবা

ঋণ পণ্য

সঞ্চয় ও আমানত

সব ঋণ নীতিমালা | সব সঞ্চয় নীতিমালা | সুদের হার (অফিসিয়াল)। প্রতিবেদনে ঋণের সুদ ৮% থেকে ২০% পরিসরে উল্লেখ আছে; পণ্যভেদে শর্ত আলাদা।

ডিজিটাল রূপান্তর (প্রতিবেদন)

কর্মী ও প্রশিক্ষণ

২৪,২১৭ কর্মীর ৯৯% মাঠ পর্যায়ে, ১৫% নারী। নতুনদের জন্য ইনডাকশন, বার্ষিক ইন-সার্ভিস, ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ আছে। কর্মীদের জন্য গ্রুপ জীবন বীমা, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, কল্যাণ তহবিল (প্রায় ২০২ কোটি টাকা) রয়েছে।

গ্রামীণ পরিবারের প্রতিষ্ঠান

গ্রামীণ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোর মালিক নয়। ২০২৫ সালে গ্রামীণ গ্রুপের সুখী (SHUKHEE) বিমার সঙ্গে ব্যাংকের চুক্তি হয় এবং ১০ লাখ নিবন্ধন উদযাপিত হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও সমালোচনা

প্রভাব

  • প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রামীণ মডেল বিশ্বের ১৭৫টি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে (ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া, নরওয়ে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের Grameen America সহ)।
  • প্রতিষ্ঠা থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ২৮,৩৯৬ বিদেশি ও দেশি দর্শনার্থী ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। শীর্ষে জাপান (৩৩%), তারপর বাংলাদেশ (২৮%), নেপাল (১৬%) ও চীন (৬%)।
  • সেবার ধরন: এক্সপোজার ভিজিট ১৮,৬২০, ইন্টার্নশিপ ৭,৫০৮, বেসিক ট্রেনিং ৪২০।
  • সদর দপ্তরে গ্রামীণ ব্যাংক মিউজিয়াম আছে।

সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ

  • কিছু সমালোচকের মতে কেউ কেউ কিস্তি মেটাতে নতুন ঋণ নেন; ঋণের টাকা অনেক সময় স্বামীর হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে।
  • একটি গবেষণা-পত্রে উচ্চ সুদ ও ডিফল্ট ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা আছে।
  • ২০২৫-এর প্রতিবেদন নিজেই স্বীকার করে: নিট সুদ মার্জিন কমেছে, খরচ-আয় অনুপাত বেড়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বেড়েছে এবং বহু কাজ এখনও হাতে-কলমে হয়।

সমালোচনাগুলো বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের মত; প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যের জন্য অফিসিয়াল সাইট দেখুন।

দারিদ্র্য বিমোচনের ১৬ সিদ্ধান্ত

বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) সঙ্গে মেলানো হয়েছে; প্রতিবেদনের মতে ব্যাংকের কর্মসূচি ১৭টির মধ্যে ১০টি SDG-র সঙ্গে সম্পর্কিত। পূর্ণ ভাষ্য

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঋণ নিতে কি জামানত লাগে?

না। অফিসিয়াল সাইট ও বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো জামানত লাগে না।

কারা ঋণের যোগ্য?

আইনে “ভূমিহীন বা বিত্তহীন ব্যক্তি” সংজ্ঞায়িত আছে (আইন অংশ দেখুন)। পণ্যের নির্দিষ্ট যোগ্যতা শাখা বা অফিসিয়াল নীতিমালায় যাচাই করুন।

ব্যাংকের মালিক কারা?

প্রধানত ঋণগ্রহীতারা। আইনে ৯০% ঋণগ্রহীতা ও ১০% সরকার বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা নির্ধারিত; তবে ২০২৫ সালের শেষে বাস্তব শেয়ার ছিল ঋণগ্রহীতাদের ৫৪.৯৮% ও সরকারের ৯.৮৭%, কারণ ৩০০ কোটি টাকার মূলধন লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি।

সুদের হার কত?

পণ্যভেদে আলাদা ও পরিবর্তনশীল। দেখুন অফিসিয়াল সুদের হার পাতা।

অভিযোগ কোথায় জানাব?

অফিসিয়াল সাইটের অভিযোগ ফরম ব্যবহার করুন।

মৃত্যু হলে ঋণের কী হয়?

সব ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বীমাকৃত। ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে বাকি ঋণ ও সুদ ঋণ-বীমা তহবিল থেকে পরিশোধ হয়, পরিবারকে বহন করতে হয় না।

তথ্যসূত্র

আরও জানতে ও সহায়তা পেতে