জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাস, আইন, ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের আর্থিক ও সামাজিক চিত্র, কর্মসূচি এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব, সবকিছু এক জায়গায়।
১৯৭৬: ২৭ ডলারে ৪২ নারীকে ঋণ দিয়ে শুরু২০২৫ সালে নিট মুনাফা ৬১০ কোটি টাকা৯,৩১,১৭০টি ঘর নির্মিত৩,৭৬,৭৯৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেপ্রায় ৫২ কোটি গাছের চারা রোপণবিশ্বের ১৭৫ দেশে গ্রামীণ মডেলের অনুসরণ (প্রতিবেদন অনুযায়ী)৯৬.৬৭% সদস্য নারী২০০৬: নোবেল শান্তি পুরস্কার২,০০৯টি শাখা মুনাফায় (ব্লু স্টার)
এটি একটি অনানুষ্ঠানিক তথ্য-সাইট; গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। বেশিরভাগ তথ্য গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে। প্রতিবেদনে কিছু সংখ্যা এক জায়গায় অন্য জায়গার সঙ্গে মেলে না; সেক্ষেত্রে আমরা প্রধান সারণির সংখ্যা নিয়েছি।
১০.৮২ মিলিয়নমোট সদস্য
৯৬.৬৭%সদস্য নারী
৮১,৬৭৮গ্রামে সেবা
২,৫২৮চালু শাখা (৪০ জোন, ২৪০ এরিয়া)
২৪,২১৭কর্মী
১,৩৫,৫২৩কেন্দ্র
৬১০ কোটি টাকা২০২৫ সালের নিট মুনাফা
গ্রামীণ ব্যাংক পরিচিতি
গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। ভূমিহীন ও বিত্তহীন মানুষকে, বিশেষত নারীদের, জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়া এর মূল কাজ। ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি “Banking for the Poor”; ঋণকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখা হয়। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী লক্ষ্য হলো আয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের নিম্নচক্র ভেঙে ড. ইউনূসের “তিন শূন্য” (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) ভাবনা এগিয়ে নেওয়া।
শুরুর গল্প
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জোবরা গ্রামে যান। বাঁশের মোড়া বানানো সুফিয়া বেগমের মতো মানুষ মহাজনের কাছে ঋণে আটকে ছিলেন। তিনি নিজের পকেট থেকে ২৭ ডলার ৪২ জন নারীকে ধার দেন; সবাই তা ফেরত দেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জামানতহীন ঋণের ধারণা দাঁড়ায়।
মূল্যবোধ (প্রতিবেদন অনুযায়ী)
আস্থা: দরিদ্ররাও ঋণযোগ্য
সততা, সংহতি (দলীয় ঋণ), মর্যাদা
ক্ষমতায়ন: অনুদান নয়, সুযোগ
সামাজিক ন্যায়: নারী, ভূমিহীন, অতিদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার
কীভাবে কাজ করে
ব্যাংক ঋণগ্রহীতার দোরগোড়ায় যায়; ঋণ বিতরণ ছাড়া প্রায় সব লেনদেন গ্রামের কেন্দ্র-সভায় হয়।
পাঁচজনের দলে ঋণ; দলের নৈতিক সহযোগিতা থাকলেও প্রত্যেকে নিজের ঋণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। সাপ্তাহিক কিস্তি ও ১৬ সিদ্ধান্ত পরিশোধ সংস্কৃতির ভিত্তি।
ঋণের পাশাপাশি সদস্যরা সঞ্চয় করেন; ঋণ-বীমা ও পেনশন সঞ্চয়ও চালু আছে।
নেতৃত্ব (বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী)
প্রতিষ্ঠাতা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস (জন্ম ২৮ জুন ১৯৪০, বাথুয়া, হাটহাজারী)
চেয়ারম্যান: অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী (৮ এপ্রিল ২০২৫-এ নিযুক্ত, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য)
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: সরদার আখতার হামেদ (৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে; বিএটি, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউসিবি, ব্যাংক এশিয়া ও সাজিদা ফাউন্ডেশনে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা)
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক: সৈয়দ মতিউর রহমান (এইচআর ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট), এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন (শাখা পরিচালনা ও মনিটরিং)
পর্ষদে ঋণগ্রহীতাদের নির্বাচিত ৯ জন নারী পরিচালক আছেন; মনোনীত পরিচালকদের মধ্যে আছেন নাজনীন সুলতানা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মারিয়া হাওলাদার।
১৯৭৬: জোবরায় গবেষণা-প্রকল্প শুরু; ২৭ ডলারে ৪২ নারীকে ঋণ। শুরুতে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হতো এবং ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে জামিনদার ছিলেন।
১৯৭৮-৭৯: কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবস্থা; বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় টাঙ্গাইলসহ আরও এলাকায় সম্প্রসারণ।
১৯৮২: ইফাদ-এর সহায়তায় ঢাকা, রংপুর ও পটুয়াখালীতে সম্প্রসারণ।
২ অক্টোবর ১৯৮৩: বিশেষ অধ্যাদেশে সরকারি আদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত; শুরুতে মালিকানা ঋণগ্রহীতার ৪০%, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬০%।
১৯৮৪: গৃহঋণ কর্মসূচি (১৯৮৯ সালে আগা খান পুরস্কার)। ১৯৯৭: উচ্চশিক্ষা ঋণ।
২০০০-২০০২: গ্রামীণ-২ (জেনারেলাইজড সিস্টেম); ২০০২ সালের জুলাইয়ে জীবন-সংগ্রামী (ভিক্ষুক) সদস্য কর্মসূচি।
২০০৬: নোবেল শান্তি পুরস্কার (গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস যৌথভাবে)।
২০১৩: গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩; প্রতিবেদনের ভাষায় পরে এটি বিতর্কিত হয়।
২০২৪-২৫: ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান (প্রতিবেদনে নিয়োগের সময় ২০২৪ ও ৮ এপ্রিল ২০২৫, দুই রকম লেখা); ১৭ এপ্রিল ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ অনুমোদন করে; ৮ এপ্রিল ২০২৫-এ নতুন এমডি নিয়োগ।
১০ এপ্রিল ২০২৬: গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (৮২ নং আইন) কার্যকর, অধ্যাদেশ রহিত।
সদস্য সংখ্যার বৃদ্ধি (মিলিয়ন)
১৯৮৪০.১২
১৯৯০০.৮৭
২০০০২.৩৮
২০১০৮.৩৪
২০২০৯.৩৪
২০২৫১০.৮২
২০২৫ সালের শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণ ৩,৫১৯.৫৪ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৪১.৪১ বিলিয়ন ডলার)। সদস্য পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৪৩-৪৫ মিলিয়ন মানুষ ব্যাংকের কার্যক্রমের আওতায় (প্রতিবেদনের অনুমান)।
আর্থিক চিত্র ২০২৫
সূচক
২০২৫
২০২৪
মোট সম্পদ
৩১,৭০৫.৫৮ কোটি টাকা
৩০,৮২৪ কোটি টাকা
ঋণস্থিতি (লোন আউটস্ট্যান্ডিং)
১৭,৩৭৮ কোটি টাকা
১৬,৩৯২ কোটি টাকা
মোট আমানত (সদস্য ১৭,৪১৭ কোটি + অসদস্য ৬,৮৯১ কোটি)
২৪,৩০৮ কোটি টাকা
২৩,৭৭৬ কোটি টাকা
শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি
৩,৯০৮ কোটি টাকা
৩,২৯৩ কোটি টাকা
নিট মুনাফা
৬১০ কোটি টাকা
৫২৯ কোটি টাকা
বছরে বিতরণ
২৭,০৩১ কোটি টাকা
২৪,১৩৪ কোটি টাকা
নিট সুদ মার্জিন (NIM)
৬.৯১%
৭.৬৮%
ROA / ROE
প্রায় ১.৯২-১.৯৩% / ১৫.৬১%
১.৭২% / —
ব্যয়-আয় অনুপাত
৬৪.৮৪%
—
ডিভিডেন্ড
৩০%
৩০%
আদায়ের হার
৯৫.৫৩% (বেসিক ঋণে ৯৫.৬৭%)
৯৬.২৫% (বেসিক ঋণ)
মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ
৬৬০ কোটি টাকা
৪৭১ কোটি টাকা
গড় আমানত / গড় ঋণ প্রতি সদস্য
২২,৪৬৫ / ২৯,২৮১ টাকা
—
ঋণস্থিতি (বিলিয়ন টাকা)
২০২১১৩৫.০
২০২২১৫২.৬
২০২৩১৬২.৫
২০২৪১৬৩.৯
২০২৫১৭৩.৮
নিট মুনাফা (কোটি টাকা)
২০২১৪৯
২০২২২৩৬
২০২৩১৮৮
২০২৪৫২৯
২০২৫৬১০
ঋণ পোর্টফোলিও পণ্যভেদে (বিলিয়ন টাকা, ২০২৫)
বেসিক১৩০.৮
ক্ষুদ্র উদ্যোগ৩০.৬
বিশেষ৪.৫
ফ্লেক্সিবল৪.১
গৃহঋণ১.২
উচ্চশিক্ষা০.৮৫
বেসিক ঋণ মোট ঋণস্থিতির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ; নবীন উদ্যোক্তা ঋণের পোর্টফোলিও ২০২৫ সালে ২১৪.৮৪% বেড়েছে, যা সব পণ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সদস্যদের আমানত ঋণস্থিতির চেয়ে বেশি, তাই ব্যাংক নিজের সদস্যদের সঞ্চয় থেকেই ঋণ দেয়। সদস্যদের আমানতের মধ্যে পেনশন তহবিল প্রায় ৬,৬৩৩ কোটি এবং ঋণ-বীমা সঞ্চয় ১,৯২৮ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে সুদ আয় কমা, ব্যাংকে রাখা আমানতের আয় ১০৭.৫৭ কোটি টাকা কমা এবং বেতন-ভাতা খরচ বাড়ার কথা সরাসরি স্বীকার করা হয়েছে।
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ
যৌথ নিরীক্ষক এম. জে. আবেদীন অ্যান্ড কোং ও এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনার্স ৫ মে ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে হিসাবকে সঠিক ও ন্যায্য বলেছেন, তবে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা কিছু এফডিআরের প্রভিশন, কর ও ভ্যাট মামলা, IFRS 16 অনুসরণ না করা, এবং ৩০০ কোটি টাকার ন্যূনতম মূলধন এখনও অর্জন না হওয়া (সরকারের শেয়ার ৯.৮৭% ও ঋণগ্রহীতাদের ৫৪.৯৮%, যেখানে আইনে ১০% ও ৯০% প্রয়োজন)।
সামাজিক প্রভাব ও কর্মসূচি
৯,৩১,১৭০গৃহঋণে নির্মিত ঘর (১৯৮৪ থেকে); ২০২৫-এ ২৯,৪৯৩টি। সর্বোচ্চ ঋণ ৮০,০০০ টাকা, ৮% সুদ, ৫ বছর।
৩,৭৬,৭৯৭শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে (১৯৯৯-২০২৫), মোট ৭৭.৪৭ কোটি টাকা। অন্তত ৫০% ছাত্রীদের জন্য।
৫৫,০৮৮উচ্চশিক্ষা ঋণ (৪০৪ কোটি টাকা); পড়ার সময় সুদ নেই, পরে ৫%।
১,১৪৬নার্সিং শিক্ষার্থী (গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং): ডিপ্লোমা ৯৯২, বিএসসি ১৫৪।
প্রায় ৫২ কোটিচারা রোপণ (২০২৫ পর্যন্ত); ২০২৫ সালে প্রায় ৮৮ লাখ। সামাজিক বনায়ন ঋণ সুদমুক্ত।
৯,০৪,১৯৪মৃত ঋণগ্রহীতার ঋণ মওকুফ (ঋণ-বীমা); বিমা তহবিল ১,৯২৭ কোটি টাকা। পরিবারকে ঋণের বোঝা বইতে হয় না।
১,৪৩,৮৯১জীবন-সংগ্রামী (ভিক্ষুক) সদস্য ২০০২ থেকে; বর্তমান ৮৯,১৪০; ২১,৩৮৮ জন ভিক্ষা ছেড়েছেন; আদায়ের হার ৮৬%।
৯৯এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (চট্টগ্রাম) সদস্য-সন্তানদের পূর্ণ বৃত্তিতে ভর্তি (প্রতিবেদনের চার্টে দেখানো সেশনগুলোর যোগফল, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫)।
কার্ড-সংখ্যা বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ থেকে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ২৫টি পূর্ণ বৃত্তি দিতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে আছে।
দশ দারিদ্র্য সূচক (প্রতিবেদনের তালিকা)
১টিনের চালার ঘর বা ৮০,০০০ টাকার ঘর; সবাই খাটে ঘুমায়
২বিশুদ্ধ পানি (নলকূপ, ফোটানো বা ফিটকিরি)
৩৬ বছরের বেশি বয়সী সব শিশু স্কুলে
৪সাপ্তাহিক কিস্তি অন্তত ২০০ টাকা
৫স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা
৬পর্যাপ্ত পোশাক, শীতবস্ত্র ও মশারি
৭বাড়তি আয়ের উৎস (সবজি বাগান, ফলের গাছ)
৮বছরে গড়ে ৫,০০০ টাকা সঞ্চয়-স্থিতি
৯সারা বছর তিন বেলা খাবার
১০অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য
স্টার কর্মসূচি (২০০১ থেকে)
১০৫গ্রিন স্টার: ১০০% ঋণ আদায়
২,০০৯ব্লু স্টার: শাখা মুনাফায়
১,৫৮২ভায়োলেট স্টার: নিজস্ব আয় ও আমানতে স্বনির্ভর
৮৫৯ব্রাউন স্টার (আবেদন): ১০০% শিশু শিক্ষিত
৫১৪রেড স্টার (আবেদন): সব পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে
সর্বোচ্চ মুনাফার শাখা: মদনপুর বন্দর (নারায়ণগঞ্জ, ২.৯৬ কোটি টাকা), জোশলং টঙ্গিবাড়ী, দক্ষিণখান উত্তরা (গাজীপুর)। ব্রাউন ও রেড স্টার যাচাই সাপেক্ষে।
আইন ও পরিচালনা কাঠামো
গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত। নিচে ২০১৩ সালের কাঠামোর সঙ্গে ২০২৫-এর সংশোধনের তুলনা (বার্ষিক প্রতিবেদন) এবং আইনের মূল পরিবর্তন (bdlaws):
বিষয়
আগে (২০১৩ আইন)
সংশোধনের পর
মালিকানা
সরকার ২৫% (২০১১-তে ৫% থেকে বাড়ানো), ঋণগ্রহীতা ৭৫%
সরকার ১০%, ঋণগ্রহীতা ৯০%
পর্ষদ
সরকার-নিযুক্ত ৩ জন (চেয়ারম্যানসহ), চেয়ারম্যান সরকার নিয়োগ দিত
১ সরকারি প্রতিনিধি + ৯ নির্বাচিত + ৩ মনোনীত; চেয়ারম্যান বোর্ড নির্বাচন করে; এমডি পদাধিকারবলে, ভোটাধিকার নেই
নিয়ন্ত্রণ
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরকারের অনুমোদন
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি
কার্যক্ষেত্র
গ্রামীণ এলাকা
সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাতেও সম্প্রসারণযোগ্য
পরিশোধিত মূলধন
—
৩০০ কোটি টাকা; ঋণগ্রহীতারা ধাপে ধাপে বাড়াবেন
এমডির বয়সসীমা
৬০ বছর
৬৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়
পরিচালকদের মেয়াদ
—
প্রতি মেয়াদে ৩ বছর, একটানা সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ, তারপর ৩ বছর বিরতি
মনোনীত ৩ পরিচালক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ অর্থনীতি বা নারীর ক্ষমতায়ন-বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, একজন নারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং নারী-অধিকার বিষয়ক একজন গবেষক, নেত্রী বা আইনজীবী।
“ভূমিহীন বা বিত্তহীন ব্যক্তি”: (ক) যাঁর পরিবার ৫০ শতাংশের কম চাষযোগ্য জমির মালিক বা সম্পত্তি নিজ ইউনিয়নের ১ একর চাষযোগ্য জমির বাজারদরের বেশি নয়; (খ) যাঁর এলাকা পরে পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তারপর নতুন জমি কেনেননি; (গ) অন্তত ৩ বছর পৌর/সিটি এলাকায় বাস করছেন, জমি নেই এবং আয় করমুক্ত সীমার বেশি নয়।
আইনের পাঠ: bdlaws.minlaw.gov.bd। প্রতিবেদনে আরও আছে: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধি মানা হচ্ছে; নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।
ওয়েব-ভিত্তিক মাইক্রোফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CBS ও ERP সমন্বিত) চালুর উদ্যোগ; পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ২০২৭।
e-gb desk দিয়ে প্রধান কার্যালয়ে কাগজবিহীন নথি অনুমোদন; নিজস্ব e-recruitment চালু।
কেন্দ্র সভার উপস্থিতি, কিস্তি ও সঞ্চয় মোবাইলে লেখার পরীক্ষামূলক ডিজিটাল কালেকশন শিট; মোবাইল আর্থিক সেবা (MFS) দিয়ে কিস্তি দেওয়ার আলোচনা।
কর্মী ও প্রশিক্ষণ
২৪,২১৭ কর্মীর ৯৯% মাঠ পর্যায়ে, ১৫% নারী। নতুনদের জন্য ইনডাকশন, বার্ষিক ইন-সার্ভিস, ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ আছে। কর্মীদের জন্য গ্রুপ জীবন বীমা, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, কল্যাণ তহবিল (প্রায় ২০২ কোটি টাকা) রয়েছে।
গ্রামীণ পরিবারের প্রতিষ্ঠান
গ্রামীণ ট্রাস্ট
গ্রামীণ কমিউনিকেশনস
গ্রামীণ শক্তি
গ্রামীণ টেলিকম
গ্রামীণ শিক্ষা
গ্রামীণ ফিশারিজ
গ্রামীণ সফটওয়্যার
গ্রামীণ সাইবারনেট
গ্রামীণ নিটওয়্যার
গ্রামীণ উদ্যোগ
গ্রামীণফোন
গ্রামীণ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোর মালিক নয়। ২০২৫ সালে গ্রামীণ গ্রুপের সুখী (SHUKHEE) বিমার সঙ্গে ব্যাংকের চুক্তি হয় এবং ১০ লাখ নিবন্ধন উদযাপিত হয়।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও সমালোচনা
প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রামীণ মডেল বিশ্বের ১৭৫টি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে (ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া, নরওয়ে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের Grameen America সহ)।
প্রতিষ্ঠা থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ২৮,৩৯৬ বিদেশি ও দেশি দর্শনার্থী ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। শীর্ষে জাপান (৩৩%), তারপর বাংলাদেশ (২৮%), নেপাল (১৬%) ও চীন (৬%)।
কিছু সমালোচকের মতে কেউ কেউ কিস্তি মেটাতে নতুন ঋণ নেন; ঋণের টাকা অনেক সময় স্বামীর হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে।
একটি গবেষণা-পত্রে উচ্চ সুদ ও ডিফল্ট ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা আছে।
২০২৫-এর প্রতিবেদন নিজেই স্বীকার করে: নিট সুদ মার্জিন কমেছে, খরচ-আয় অনুপাত বেড়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বেড়েছে এবং বহু কাজ এখনও হাতে-কলমে হয়।
সমালোচনাগুলো বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের মত; প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যের জন্য অফিসিয়াল সাইট দেখুন।
দারিদ্র্য বিমোচনের ১৬ সিদ্ধান্ত
১শৃঙ্খলা, ঐক্য, সাহস ও কঠোর পরিশ্রম মেনে চলব।
২পরিবারে সচ্ছলতা আনব।
৩নিরাপদ ও টেকসই ঘর তৈরি করব।
৪সারা বছর সবজি চাষ করব ও বিক্রি করব।
৫যত বেশি সম্ভব চারা লাগাব।
৬পরিবার ছোট রাখব, সবাই টিকা নেব।
৭সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করব।
৮পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, স্বাস্থ্যের যত্ন নেব।
৯স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করব।
১০নলকূপের বিশুদ্ধ পানি পান করব।
১১যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নয়।
১২কারও প্রতি অন্যায় করব না, করতে দেব না।
১৩বেশি আয়ের জন্য সম্মিলিত বড় বিনিয়োগ করব।
১৪একে অপরকে সাহায্য করব।
১৫কোনো কেন্দ্রে শৃঙ্খলা ভাঙলে সবাই মিলে ফেরাব।
১৬সব সামাজিক কাজে একসঙ্গে অংশ নেব।
বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) সঙ্গে মেলানো হয়েছে; প্রতিবেদনের মতে ব্যাংকের কর্মসূচি ১৭টির মধ্যে ১০টি SDG-র সঙ্গে সম্পর্কিত। পূর্ণ ভাষ্য
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০০৬
পিটার্সবার্গ পুরস্কার ২০০৪
গান্ধী শান্তি পুরস্কার ২০০০
ওয়ার্ল্ড হ্যাবিট্যাট অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৭
টুন আবদুল রাজাক অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৪
কিং বদুইন পুরস্কার ১৯৯২
আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড ১৯৮৯
সেরা CSR ব্যাংক ২০১৪
কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কার ১৯৯২
স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ১৯৯৪
সিটি ডেন্টাল কলেজ স্বর্ণপদক ১৯৯৫-৯৬
এমসিসিআই ১০০ বছর পুরস্কার ২০১৪
আইসিএমএবি সেরা কর্পোরেট ২০১৪
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঋণ নিতে কি জামানত লাগে?
না। অফিসিয়াল সাইট ও বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো জামানত লাগে না।
কারা ঋণের যোগ্য?
আইনে “ভূমিহীন বা বিত্তহীন ব্যক্তি” সংজ্ঞায়িত আছে (আইন অংশ দেখুন)। পণ্যের নির্দিষ্ট যোগ্যতা শাখা বা অফিসিয়াল নীতিমালায় যাচাই করুন।
ব্যাংকের মালিক কারা?
প্রধানত ঋণগ্রহীতারা। আইনে ৯০% ঋণগ্রহীতা ও ১০% সরকার বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা নির্ধারিত; তবে ২০২৫ সালের শেষে বাস্তব শেয়ার ছিল ঋণগ্রহীতাদের ৫৪.৯৮% ও সরকারের ৯.৮৭%, কারণ ৩০০ কোটি টাকার মূলধন লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি।